গঙ্গাস্তোত্রম্ – দ্বাদশ শ্রেণী (Sanskrit HS)

গঙ্গাস্তোত্রম্ বিষয় সংক্ষেপ, গঙ্গাস্তোত্রম্ বাংলা অনুবাদ, গঙ্গাস্তোত্রম্ বাংলা অনুবাদ পিডিএফ ডাউনলোড, সংস্কৃত সহায়িকা দ্বাদশ শ্রেণী।

সংস্কৃত সাহিত্য তথা শাস্ত্রচর্চা ও চর্যার বিস্ময়কর প্রতিভা এবং আবহমান ভারতবর্যের বহুমুখী ব্যক্তিত্বের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র – আচার্য শঙ্কর। তাঁর জীবন, ভারতবর্ষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তাঁর অবদান এতটাই আশ্চর্যকর, এতটাই বহুমুখী, | এতটাই বিস্ময়কর যে-কোনাে মর্ত্যলােকের বাসিন্দার অতি-স্বল্পায়ু পরিসরে তা সম্ভব কিনা—তা বিশ্বাস করতে আমাদের যুক্তির উর্ধ্বে উঠে মুগ্ধতার নম্রতায় মেনে নিতে হয়। মেনে নিতে হয় এজন্যে যে তা সত্যই ঘটেছিল নইলে কবি কালিদাসের ভাষাতে বলতে হতাে—স্বপ্নো নুমায়ানুমতিভ্রমােনু’। অবশ্য আরেক শ্রেষ্ঠ ইংরেজ কবি শেক্সপীয়র এর উত্তর দেন তার অভিজ্ঞতায় ‘Truth is stanger than fiction’।

আর গােটা পৃথিবীর ইতিহাসেই দেখা গেছে এইসব লােকোত্তীর্ণ পুরুষদের ঘিরে গড়ে ওঠে অজস্র অলৌকিক কল্পকথার মায়াজাল—যা ভেদকরে সত্য নির্ধারণ করা ঐতিহাসিকদের কাছে রীতিমতাে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আচার্যশঙ্করের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। আমরা দেখি যে তার জন্ম, জন্মস্থান, জন্মকাল, তার জীবনযাত্রা, তাঁর পরিক্রমা ও রচনাকর্মকে ঘিরে তৈরি হয়ে সহস্র সহস্র ‘ মিথ’-এর উদ্ভব, অলৌকিকতায় পূর্ণ এই সামান্য পরিসরে আচার্য শঙ্করের সেসব কিছুর ইতিকথা বর্ণনা করা সম্ভব নয়। কিন্তু গল্পকথার মায়াজাল সরিয়ে খুব সামান্যভাবে তার জন্ম, কর্ম ও সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে আলােচনা করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে— এজন্যে হয়তাে তাঁর অসামান্য কীর্তির অনেক কিছুই বাদ পড়বে— আগ্রহী। ছাত্রছাত্রীরা প্রয়ােজনে সেসব পরে জেনে নিতে পারবে।

জন্মকাল ও জন্মস্থান

শঙ্করাচার্যের জন্মস্থান ও জন্মকাল দুটিই রহস্যাবৃত। তার জন্মের বহু পরে তাকে অবলম্বন করে রচিত বহু গ্রন্থ যাকে
শঙ্করবিজয়’নামে চিহ্নিত করা হয়— যেগুলি রচিত হয়েছে— সেগুলিতে একটির সঙ্গে অপরটির এতটাই পার্থক্য এবং
প্রত্যেকের দাবি এমন দৃঢ় যে চিন্তা ঘােলাটে হয় সত্য উন্মােচনে। কবি কালিদাসের মতােই তিনিও তাঁর রচনাকর্মে এ প্রসঙ্গে কোনাে তথ্য দেননি। ফলত দাবির পাহাড় জমে উঠেছে। আত্মজীবনীমূলক ‘শঙ্করবিজয়’গ্রন্থগুলি এবং সম্প্রদায়গত দাবিগুলি সব মানলে তার জন্ম সময় খ্রিস্টপূর্বকাল থেকে শুরু করে খ্রিস্টীয় দশমশতক-প্রায় একহাজার বছর ধরতে হয়। তবে অধিকাংশ পণ্ডিতের মতে তার জন্মকাল ৭৮৮ – ৮২০ খ্রিস্টাব্দ। অর্থাৎ তিনি মাত্র ৩২ বছর জীবিত ছিলেন। দার্শনিক সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত সহ অধিকাংশ পণ্ডিত এই মত তাদের গ্রন্থে উল্লেখ করে নানা অভ্যন্তরীণ প্রমাণের সাক্ষ্যে। সাম্প্রতিকালে হাজমে নাকামুরা, এ. জে. অলস্টোম্রা আবার ৭০০ খ্রিস্টাব্দকে তার জন্মকাল বলে দাবি করেছেন। কার্ল পটারের ‘Encyclopedia of Indian Philosophies’ (খণ্ড-৩য়) গ্রন্থে জন্মকাল নিয়ে বহুতথ্য দেওয়া আছে। যাহােক অষ্টম খ্রিস্টাব্দইহলাে সর্বাপেক্ষা বেশি জনের দাবি। তাই সেটিই আচার্যের জন্মকাল বলে ধরা সঙ্গত হতে পারে।

READ ALSO  নৌবিদ্রোহ, ১৯৪৬ খ্রি. (Royal Indian Navy Revolt, 1946)

জন্মস্থান নিয়েও বিতর্ক আছে। কেরালা, তামিলনাড়ুর সকলের দাবি—শঙ্করাচার্য সেই ভূখণ্ডে জন্মেছেন। অবশ্য সম্প্রদায়গতভাবে, অধিকাংশ মনে করেন তার জন্ম কেরলের কালাডি’ গ্রামে। কা’এর অর্থ খা (Channel), আডি। আদি (আরম্ভ)। অর্থাৎ যেখানে একটি খালের আরম্ভ। সেই গ্রামই কালাডি। বর্তমানে সেখানে একটি খাল আছে তার গ্রামের পাশে। নারকেল-আমগাছের ছায়া ঘেরা গ্রাম। সেখানেই তার জন্ম। পিতার নাম শিবগুরু এবং মায়ের নাম আর্যাম্বা বা মতান্তরে তারকাদেবী। অত্রিবংশে জন্ম। পিতা জন্মের অল্পপরেই মারা যান। মাতাই তাকে মানুষ করেন, তাই শেষপর্যন্ত মায়ের প্রতি তার অসীম শ্রদ্ধা ছিল- কঠোর বৈদিক নাম্বুদ্রিােদবংশে তার জন্ম, যেখানে সন্ন্যাসীরা পিতামাতার দাহকার্য করতে পারে না, সেখানে সকলের আত্মীয় পরিজন; গ্রামের বাধা অগ্রাহ্য করে তিনি মায়ের দাহকার্য ও শ্রাদ্ধ করেছিলেন।

যাহােক অত্যল্প বয়সেই তার বিস্ময়কর মেধার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে উপনয়নের পর তিনি গুরুগৃহে বিদ্যাশিক্ষার জন্যে ভর্তি হয়ে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বেদ-মীমাংসা-দর্শন-সাহিত্য-তন্ত্র সমস্ত বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং মাত্র আট বছর বয়সেই বিদ্যা সম্পূর্ণ করে সন্ন্যাসব্রতে দীক্ষার জন্যে প্রস্তুত হন। গ্রামের পূর্ণানদীতে স্নান করে স্নেহশীলজননীর অনুমতি নিয়ে এই বালক সন্ন্যাসী গুরুর সন্ধানে ভারত পরিক্রমা আরম্ভ করেন। ঘুরতে ঘুরতে বিন্ধ্য পর্বতমালার নর্মদাতীরে গুরু ভগবৎপাদ গােবিন্দাচার্যের সাক্ষাৎ পান।
শঙ্করাচার্যের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও বিদ্যাবত্তায় চমৎকৃত হয়ে গােবিন্দ ভগবৎপাদ তাকে সন্ন্যাসব্রতে দীক্ষা দেন এবং দর্শনশাস্ত্র ব্যাখ্যা ও প্রচারের জন্যে উপদেশ দেন। এই গােবিন্দ ভগবৎপাদকেই‘গৌড়পাদ’ নামে আখ্যাত হতে দেখা যায় এবং মাক্যোপনিষৎকারিকার রচয়িতা হিসেবে গৌড়পাদকেশঙ্করাচার্য তার গুরু হিসেবে স্বীকার করেছেন। (তিনি নাকি মহাভাষ্যকার পতঞ্জলির শিষ্য ছিলেন এবং পতঞ্জলির অভিশাপেব্ৰহ্রাক্ষসে পরিণত হন, বিন্ধ্যপর্বতে নর্মদা তীরে থাকতেন, ব্যাকরণ নিয়ে প্রশ্ন করতেন। শেষপর্যন্ত চন্দ্ৰশর্মা, তার প্রশ্নের যথার্থ উত্তর দিলে তিনি শাপমুক্ত হন)।
বারাে বছর পর্যন্ত আচার্যশঙ্কর বিদ্যার ও শাস্ত্রের সকল শাখা অধ্যয়ন করেন।

যাহােক-গুরুর আদেশ শিরােধার্য করে শঙ্কর প্রথম কাশীতে উপস্থিত হন এবং দীর্ঘদিন বেদান্তপ্রচার, শিক্ষাদান ও অন্যান্য রচনায় ব্রতী হন। এখানেই তার প্রথম ও বিখ্যাত শিষ্য বিশ্বশর্মাকে পান। শিষ্যত্ব গ্রহণ ও সন্ন্যাসের পর তার নাম হয় পদ্মপাদ (এ বিষয়েও বহু কাহিনির সমাবেশ) এখানেই নাকি বিশ্বনাথ শিব শঙ্করাচার্যকে চণ্ডালের বেশে পরীক্ষা করেন এবং এর আগে অস্পৃশ্যতা মেনে চলা শঙ্করের জীবব্রত্মের অভেদতত্ত্ব অদ্বৈতবাদের শিক্ষা দেন। অর্থাৎ জীবন্তর্গত ব্ৰত্ম সকল জীবে অভেদ, সেখানে ব্রাত্মণ চণ্ডাল ভেদ নেই। এরপর শঙ্করাচার্য চলে যান হিমালয়ের বদ্রীনাথে, এবং এটিই তাঁর দর্শনচর্চার উজ্জ্বলতম ক্ষেত্র যেখানে তিনি তার বিখ্যাত ব্ৰিত্মসূত্রশাঙ্করভাষ্য’সহ অন্ততঃ ১০টি উপনিষদের অপূর্ব ভাষ্য রচনা করেন- যা প্রতিভা ও সরল-সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে গণ্য হতে পারে। এছাড়াও তিনি গীতাভাষ্য সহ বহু গ্রন্থ ও স্তোত্ৰশাস্ত্র রচনা করেন। সারা ভারত পদব্রজে সশিষ্য পরিভ্রমণ করেন। তৎকালের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতকুল যারা অন্য দর্শনশাস্ত্র-বিৎ যেমন
ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য এবং বিশেষ করে বৌদ্ধ ও চার্বাক দার্শনিকদের তর্কযুদ্ধে পরাস্ত করেছেন, মুখে মুখে শাস্ত্র ব্যাখ্যা, স্তোত্র রচনা করছেন। মাত্র ৩২ বছরের অত্যল্প আয়ুর এর চিরবিস্ময় প্রতিভার এমন উত্তুঙ্গ বিস্ফোরণ শুধু বিস্ময় জাগায়, নির্বাক করে রাখে—শুধুভাবায়—কী করে এসব হয় বা হয়েছিল? তার ভক্ত শিষ্যরা তাই বলেন আচার্যের জন্ম নেই, মৃত্যুও নেই। শিবস্বরূপ আচার্যের আবির্ভাব ঘটেছিল কর্মান্তে অপ্রকাশ হয়েছেন মাত্র।

READ ALSO  আমি দেখি কবিতার MCQ - উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা

অবদান

আগেই বলেছি মাত্র বত্রিশ বছরের জীবনে এত বিপুল অধ্যয়ন, ব্যাখ্যান, প্রচার ও রচনা করেছেন যে আমাদের বিস্ময় জাগে।
ভারতীয় দর্শন শাস্ত্রের জটিল ব্যাখ্যা, যুক্তিসম্মত বিশ্লেষণ— যা একটি দর্শনশাস্ত্রের বিচারেই জীবন অতিবাহিত হয়ে যায়, সেখানে এতগুলি দর্শনশাস্ত্র অধ্যয়ন, ব্যাখ্যা এমনকি অদ্বৈত বেদান্ত তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যে অন্যদর্শনের মতগুলি খণ্ডন করে স্বমত প্রতিষ্ঠা, দশনামী সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা, ভারতবর্ষেশঙ্করমঠ প্রতিষ্ঠা—একটা অত্যাশ্চর্য বিস্ময়। তবে শুধু দর্শন নয় তার রচিত স্তোত্রাবলি অপূর্ব সাহিত্য নিদর্শন হিসেবেও গণ্য হতে পারে—এমনই ছন্দের সুললিত তার ঝঙ্কার। কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত পরিভ্রমণে সর্বত্রই তার শঙ্করবিজয় প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।

তার গ্রন্থাবলি

শঙ্করাচার্যের জীবনের মতােই তার রচনাবলি নিয়েও বহু‘মিথে’রসংমিশ্রণ। গবেষক অধ্যাপক ড. শ্রীনিবাস শঙ্করনারায়ণ তাঁর গ্রন্থে শঙ্করাচার্যের রচনাবলিকে দশটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। ১. সূত্ৰভাষ্য, ২. উপনিষদ্‌ভাষ্য, ৩. গীতাভাষ্য, ৪. স্তোত্ৰভাষ্য, ৫. অন্যান্য ভাষ্য, ৬. প্রকীটীকা, ৭. অদ্বৈত প্রকরণ গ্রন্থ (সর্বাধিক) ৮. স্তোত্রাবলি, ৯, তন্ত্র, ১০ যােগ। মােট ১৬৭ টি গ্রন্থের নাম সহ উল্লেখ তিনি করেছেন। অবশ্য এর সঙ্গে যােগ করেছেন যে বেশ কিছু গ্রন্থের প্রামাণিকতা নিয়ে সন্দেহ আছে। এত বিপুল গ্রন্থের যদি সাধারণ বিভাগ করা যায় তাহলে বলতে হয় ভাষ্যগ্রন্থ, প্রকরণ গ্রন্থ ও স্তোত্রাবলি এই তিনটি প্রধান ভাগ তার রচনাবলির মধ্যে বিদ্যমান। আমরা প্রধান কয়েকটি নামমাত্র উল্লেখ করবাে।

ক.
ভাষ্যগ্রন্থের মধ্যে প্রধান ব্ৰত্মসূত্র ভাষ্য বা বেদান্তসূত্র-শারীরক ভাষ্য। প্রধান এগারােটি উপনিষদ্ভাষ্য উপনিষদগুলি – যেমন ঈশ, কঠ, কেন, মুণ্ডক, মাণ্ডুক্য, তৈত্তিরীয়, ঐতরেয়, ছান্দোগ্য, বৃহদারণ্যক, শ্বেতাশ্বতর, কৌষীতকি প্রভৃতি। এছাড়া মৈত্ৰায়ণী সহ আরও অন্তত ১৩/১৪ টি ছােটো বড়াে উপনিষদের ভাষ্য শঙ্করের নামে চালু।

এছাড়া শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ভাষ্য বিশেষ উল্লেখ বিষুসহস্রনামস্তোত্ৰভাষ্য, হস্তামলক স্তোত্ৰভাষ্য, আত্মবােধ টীকা প্রভৃতি তাঁর রচনা। তার সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কীর্তি অদ্বৈতবেদান্তবাদ প্রতিষ্ঠার জন্যে অদ্বৈতবেদান্তের বহুপ্রকরণ গ্রন্থ রচনা— যেমন-আত্মবােধ, অদ্বৈতানুভূতি, অপরােক্ষানুভূতি, মায়াপক, উপদেশসহস্রী, বিবেকচূড়ামণি ইত্যাদি প্রায় ৪৫টির মতাে গ্রন্থ।

স্তোত্রাবলির মধ্যে প্রসিদ্ধ —
আনন্দ লহরী
সৌন্দর্য লহরী
শিবানন্দ লহরী
ভবানীভুজঙ্গ
দেবীভুজঙ্গ
বিভুজঙ্গপ্রয়াত
গণেশপঞ্চরত্ন
কাশীপকম্।

READ ALSO  কে বাঁচায় কে বাঁচে প্রশ্ন এবং উত্তর (Question and Answer). HS

এছাড়া প্রায় ২৫/২৬টি অষ্টক। অর্থাৎ আটটি শ্লোকে দেবদেবীর স্তুতি, নদনদী স্থানের মাহাত্ম্য বর্ণনা। হিন্দুদের প্রায় সব দেবদেবীর স্তুতিই আশ্চর্য শব্দ ঝঙ্কারে, ছন্দের নিপুণ প্রয়ােগে কবি শঙ্করাচার্য, ভক্ত শঙ্করাচার্যের অন্যরুপ আমাদের মুগ্ধ করে।

উৎস

স্তোত্রাকারে শঙ্করাচার্য কমপক্ষে ৪৫/৫০টি স্তোত্র রচনা করেছেন যার মধ্যে নানা দেবদেবী যেমন আছেন, তেমনি অদ্বৈত বেদান্তবাদী আচার্য সর্ববস্তুতে ব্রত্মের অনুভব প্রত্যক্ষ করে পর্বত, নদ, নদী থান—সবকিছু সম্পর্কেই ছােটবড় স্তোত্র, কখনাে লহরীর নামে, কখনাে ভুজঙ্গের নামে, কখনাে অষ্টকের নামে, কখনাে শুধু স্তোত্রের নামে অনর্গল রচনা করেছেন। প্রচলিত মতঅনুসারেআচার্যশঙ্কর কাশীর গঙ্গাতীরে থাকার সময় গঙ্গার মাহাত্ম্য, সৌন্দর্যেমুগ্ধ হয়ে তাকে দেবীজ্ঞানে,পতিতপাবনীরূপে, ত্রিতাপদুঃখহরণকারিনীরূপে মুখে মুখে এই স্তব রচনা করেন। মােট চৌদ্দটি শ্লোক থেকে বর্তমান গ্রন্থে ১০টি শ্লোক গৃহীত হয়েছে। এছাড়া পৃথকভাবেও আটটি শ্লোকে আলাদা ‘গঙ্গাষ্টক’তিনি রচনা করেন।

নামকরণ

গঙ্গানদী বৈদিকযুগের থেকেই প্রসিদ্ধ। ঋগ্বেদের নদীসূক্তে (১০/৭৫) সপ্তনদীর মধ্যে গঙ্গার নাম আছে। ক্রমে ক্রমে পুরাণে ও পরবর্তী সংস্কৃত সাহিত্যে গঙ্গানদী দেবীর স্থান লাভ করেছে। হিমালয়ের গঙ্গোত্রী বা শিবজটা থেকে উৎপন্ন এই নদী ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ নদী, অন্যতম দীর্ঘনদী, কৃষিবাণিজ্যে তার অপূরণীয় অবদান, আবার ভক্তগণের কাছে গঙ্গার জল, গঙ্গাতীর, গঙ্গাস্নান সবই পুণ্য কর্ম। গঙ্গার কুলে কুলে অজস্র হিন্দুমন্দির। পরম আরাধ্যা, পবিত্রা, পতিতপাবনী এই গঙ্গার অপূর্ব স্তুতি দশটি শ্লোকে পরিলক্ষিত হওয়ায় আলােচ্য নামকরণটি সুসার্থক হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু

এখানে গঙ্গাকে দেবীরূপে স্তুতি করা হয়েছে। তিনি দেবগণের ঈশ্বরী, তরঙ্গযুক্তা, শিবজটা নিবাসিনী উত্তর থেকে পূর্বে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রবাহিনী। শ্রীবিষ্ণুর পাদপদ্ম থেকে তরঙ্গরূপে নির্গত, তুষার চন্দ্র ও মুক্তাধবল তার তরঙ্গ, নির্মল তার জলরাশি।
সমস্ত পতিত জনের তিনি উদ্ধারকর্জী। তাকে দর্শন করলে মৃত্যু পর্যন্ত দ্রষ্টাকে ছুঁতে পারে না। তিনি মহারতের মহাপ্রাজ্ঞ ভীষ্মের জননী, জহ্নমুনির কন্যা বলে জাহ্নবী, স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতালে তার বিচরণ। গঙ্গা কল্পবৃক্ষের মতাে ভক্তের বাচ্ছা পূরণ করেন। এমনকি গঙ্গাস্নানের এমন পুণ্য যে, গঙ্গাস্নাত ব্যক্তির আর পুনর্জন্ম হয় না। মানুষের পাপ, মহাপাতকতা,
| মনের কলুষতা – সবই গঙ্গাদেবীর কৃপায় বিনষ্ট হয়—এমনি উত্তুঙ্গ তার মহিমা। দেবরাজ ইন্দ্র তার চরণে সদা প্রণত।তিনি স্বর্গে সুরধুনী অলকানন্দা। সমস্ত রােগ, শােকতাপ, কুমতি—যা ত্রিভুবনে আছে তা গঙ্গা বিনষ্ট করেন। গঙ্গাতীরে বাস বৈকুণ্ঠ বাসতুল্য। তাই ভক্ত শঙ্করাচার্য তার কাছে শেষ ও শ্রেষ্ঠ আশ্রয় চেয়ে সুললিত ভাষায় স্তব করেছেন ও বারবার মুক্তি প্রার্থনা করেছেন, পুনর্জন্ম থেকে নিবৃত্তি চেয়েছেন।

Download PDF Book

গঙ্গাস্তোত্রম্ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং উত্তর (Sanskrit QNA) HS

তেলেনাপােতা আবিষ্কার – প্রেমেন্দ্র মিত্র

উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিজ্ঞান – শিখন (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্নোত্তর সাজেশন 2022

Leave a Comment